খাদ্য ও পুষ্টি উপাদান

✪ খাদ্য ও পুষ্টিঃ

আমরা যে সব বস্তু আহার করি তাকে আহার্য সামগ্রী বলে। কিন্তু সব আহার্য সামগ্রীই খাদ্য নয়। যেমন, থোড় সেলুলোজ দিয়ে গঠিত হওয়ায় আমাদের পরিপাক নালীতে পাচিত হয় না। ফলে পুষ্টি সহায়ক নয়। সেই সব আহার্য সামগ্রীকেই খাদ্য বলা যাবে, যা দেহের পুষ্টি ও বৃদ্ধি সহায়ক এবং তাপশক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে।

জীবদেহে শক্তির উৎস হল খাদ্য। সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়াকালে সৌরশক্তি খাদ্যের মধ্যে স্থৈতিক শক্তিরুপে আবদ্ধ হয়। জীবকোষে শ্বসনের সময় স্থৈতিক শক্তি তাপ শক্তি বা গতিশক্তি রুপে মুক্ত হয়, জীবদেহের যাবতীয় বিপাক ক্রিয়া, যেমন : শ্বসন, রেচন,পুষ্টি ইত্যাদি এবং শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপ, যেমন-বৃদ্ধি, চলন-গমন, জনন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রিত হয়। সুতরাং প্রানধারনের জন্য প্রত্যেক জীবকেই খাদ্য গ্রহন করতে হয়। তাই, যে সব আহার্য সামগ্রী গ্রহন করলে জীবদেহের বৃদ্ধি, পুষ্টি, শক্তি উৎপাদন ও ক্ষয়পূরন হয়, তাকেই খাদ্য বলে।

পুষ্টি হল পরিবেশ থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্যবস্তু আহরন করে খাদ্যবস্তুকে পরিপাক ও শোষণ করা এবং আত্তীকরন দ্বারা দেহের শক্তির চাহিদা পূরণ , রোগ প্রতিরোধ , বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করা ৷ অর্থ্যাৎ দেহ সুস্থ ও সবল রাখার প্রক্রিয়াকে পুষ্টি বলে৷ পুষ্টির ইংরেজি শব্দ (Nutrition)। অপরদিকে খাদ্যের যেসব জৈব অথবা অজৈব উপাদান জীবের জীবনীশক্তির যোগান দেয় , তাদের একসঙ্গে পরিপেষক বা নিউট্রিয়েন্টস (Nutrients) বলে ৷ যেমন :—গ্লুকোজ , খনিজ লবণ , ভিটামিন ইত্যাদি ৷

✪ খাদ্যের কাজঃ

  • ➤ শরীর গঠন ও বৃদ্ধিসাধন এবং ক্ষয়পূরণ
  • ➤ শরীরে তাপশক্তি ও কর্মক্ষমতা যোগানো
  • ➤ শরীর রোগমুক্ত রাখা
  • ➤ অসুস্থ শরীরকে আরোগ্য লাভে সহায়তা করা 

✪ খাদ্যের শ্রেণীবিভাগঃ

জীবদেহে খাদ্যের কার্যকারিতা অনুযায়ী খাদ্য কে দু'ভাগে ভাগ করা হয়, যেমন-

  1. দেহ-পরিপোষক খাদ্যঃ যে সব খাদ্য দেহের গঠন, বৃদ্ধি ও শক্তি উৎপাদনে সহায়কারী, তাদের দেহ-পরিপোষক খাদ্য বলে। যেমন :শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট, আমিষ বা প্রোটিন এবং স্নেহপদার্থ বা ফ্যাট বা লিপিড।
  2. দেহ-সংরক্ষক খাদ্যঃ যে সব খাদ্য দেহকে রোগ সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে, শক্তি উৎপাদনে সহায়ক নয়, তাদের দেহ-সংরক্ষক খাদ্য বলে। যেমন : খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন, খনিজ পদার্থ বা নারালস।

👉 কাজ এর ভিত্তিতে খাদ্যকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। যেমনঃ

১. শক্তিদায়ক খাদ্যঃ  এসকল খাদ্যের প্রধান ভূমিকা হলো, শক্তি ও তাপ উৎপাদন করে শরীরকে সতেজ ও কর্মক্ষম রাখা।  শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্রিয়াকর্ম যেমনঃ শ্বাসপ্রশ্বাস ক্রিয়া, হৃৎপিন্ড ও অন্যান্য দেহ যন্ত্রের ক্রিয়া, পরিপাক ক্রিয়া, মলমূত্র নিষ্কাষণ ক্রিয়া এবং  দৈনন্দিন জীবনে সকল কাজকর্ম সম্পাদনে শক্তি প্রয়োজন। যে সকল  খাদ্য সামগ্রী হতে শক্তি পাওয়া  যায় তা হলোঃ

  • শস্য জাতীয় খাদ্য (যেমন  চাল, গম, ভূট্টা, জোয়ার ইত্যাদি)।
  • মূল জাতীয় খাদ্য (যেমন  গোল আলু, মিষ্টি আলু, মেটে আলু, কাসাবা ইত্যাদি)।
  • তেল বা চর্বি জাতীয় খাদ্য (যেমন সব রকমের তেল, ঘি,  মাংসের চর্বি  ইত্যাদ।
  •  চিনি, গুড়  ও মিষ্টি  জাতীয় খাদ্য।

২. শরীর গঠন, বৃদ্ধিসাধন এবং ক্ষয়পূরণকারী খাদ্যঃ এ সকল খাদ্য মানবদেহে মূলত: শরীরের কাঠামো তৈরী বা শরীর গঠন, শরীরের বৃদ্ধি সাধন ও শরীরের ক্ষয় পূরণে কাজ করে থাকে।

➤এসব খাদ্যের মধ্যে প্রাণীজ উৎস থেকে প্রাপ্তঃ

  • ডিম
  •  দুধ
  •  মাছ
  • মাংস

➤ এবং উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রাপ্ত:

  • সব রকমের ডাল
  •  মটর শুঁটি
  •  সীমের বীচি
  • কাঁঠালের বীচি
  • বাদাম প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

৩. রোগ প্রতিরোধক খাদ্যঃ এ সকল খাদ্যের প্রধান ভূমিকা হলো, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, নানা প্রকার রোগ-ব্যাধি কিংবা অসুস্থতা হতে শরীরকে রক্ষা করা। রোগ প্রতিরোধক সস্তা খাদ্যের মধ্যে রয়েছে :

  • রঙ্গিন শাকসব্জি
  •  ফলমূল

খাদ্য উপাদানের শ্রেণী বিভাগঃ

খাদ্য উপাদানসমূহকে ৬ টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

  • ১. শ্বেতসার বা শর্করা (উৎস- চাল, গম, ভুট্টা, চিড়া, মুড়ি, চিনি, গুড়, আলু ও মূল জাতীয় অন্যান্য খাদ্য)।
  • ২. আমিষ বা প্রোটিন (উৎস-মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ডাল, মটর শুঁটি, সীমের বীচি, কাঁঠালের বীচি, বাদাম ইত্যাদি)।
  • ৩. স্নেহ বা স্নেহপদার্থ জাতীয় খাদ্য (উৎস-তেল, ঘি, মাখন, চর্বি  ইত্যাদি।
  • ৪. খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন (উৎস-রঙ্গিন শাক-সব্জি ও ফল, ডিম, দুধ, কলিজা ইত্যাদি)।
  • ৫. খনিজ লবণ (উৎস-রঙ্গিন শাক-সবজি ও ফল, ডিম, দুধ, কলিজা, মাংস, ছোট মাছ ইত্যাদি।
  • ৬. জল বা নিরাপদ পানি।

➤১. শর্করা বা কার্বোহাইড্রেটঃ

উপাদানঃ কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন এই তিনটি উপাদান নিয়ে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট গঠিত। শর্করায় হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন ২:১ অনুপাতে থাকে। শর্করার আণবিক সংকেত Cn(H2O)n; যেমন      গ্লুকোজ C6H12O6, সুক্রোজ C12H22O11 ইত্যাদি।

উৎসঃ ধান বা চাল, গম, ভূট্টা, বাজরা, আলু, ওল, কচু, বীট, গাজর ইত্যাদিতে স্বেতসার বা স্টার্চ; খেজুর, আঙ্গুর, আপেল ইত্যাদিতে দ্রাক্ষাশর্করা বা গ্লুকোজ; শাক-সবজি, বেল, তরমুজ, থোড় ইত্যাদিতে সেলুলোজ; আম, কলা, কমলালেবু প্রর্ভতি পাকা ফলে ফলশর্করা বা ফুক্টোজ; চিনি, গুড়, মিছরী ইত্যাদিতে ইক্ষুশর্করা বা সুক্রোজ; দুধে দুগ্ধ শর্করা বা ল্যাক্টোজ এবং পাঁঠার যকৃৎ ও পেশীতে গ্লাইকোজেন বা প্রাণীজ শ্বেতসার পাওয়া যায়।

শ্রেণীবিভাগঃ কার্বোহাইড্রেটের প্রত্যেক অণুতে সরল শর্করার এক বা একাধিক এককের উপস্থিতি অনুসারে কার্বোহাইড্রেটকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়ছে। যথা :

  • ১. মনোস্যাকারাইডঃ যেসব শর্করা একটি মাত্র অণু দ্বারা গঠিত, তাকে মনোস্যাকারাইড বলে। যথা: গ্লুকোজ, ফ্রুকটোজ ও গ্যালাকটোজ।
  • ২. ডাইস্যাকারাইডঃ যেসব শর্করা দুটি অণু দ্বারা গঠিত, তাকে ডাইস্যাকারাইড বলে। যেমন: সুক্রোজ, ল্যাকটোজ ও মলটোজ।
  • ৩. পলিস্যাকারাইডঃ যেসব শর্করা অনেক অণু দ্বারা গঠিত, তাকে পলিস্যাকারাইড বলে। যেমন: স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও সেলুলোজ।

➤ পুষ্টিগত গুরুত্ব বা কাজঃ

  • দেহে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাপ শক্তি উৎপাদন শর্করার প্রধান কাজ।
  • সেলুলোজ জাতীয় খাদ্য কোষ্ঠবদ্ধতা দূর করে।
  • গ্লাইকোজেন যকৃত ও পেশীতে সঞ্চিত থাকে যা প্রয়োজনের সময় গ্লুকোজে পরিণত হয়ে দেহে অতিরিক্ত তাপ শক্তি উৎপাদন করে এবং রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিক রাখে। রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক পরিমান হল প্রতি ১০০ মিলি. রক্তে ৮০-১২০ গ্রাম।

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায় যে, প্রাণিজ প্রোটিন গ্রহন না করেও শুধুমাত্র প্রচুর পরিমাণে শ্বেতসার জাতীয় খাদ্য খেয়ে মানুষ সুস্থ শরীরে দীর্ঘদিন যাবৎ বেঁচে থাকতে পারে। এই জন্য শ্বেতসার জাতীয় খাদ্যকে প্রোটিন বাঁচোয়া খাদ্য বলা হয়।

➤২. আমিষ বা প্রোটিনঃ

উপাদানঃ কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন সমন্বয়ে প্রোটিন গঠিত। অনেক সময় সালফার এবং ফসফরাসও প্রোটিনে থাকে। প্রোটিন-অণু অসংখ্য অ্যামাইনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে গঠিত হয়।

উৎসঃ মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ছানা ইত্যাদিতে প্রাণিজ আমিষ এবং ডাল, সয়াবিন, বীন, গম ইত্যাদিতে উদ্ভিজ্জ আমিষ পাওয়া যায়। প্রানিজ আমিষে অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিডের প্রায় সব গুলিই থাকে বলে প্রাণিজ আমিষকে প্রথম শ্রেণীর আমিষ বা প্রোটিন বালা হয়।

  • শ্রেণীবিভাগঃ প্রোটিনকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
    ১. সরল প্রোটিনঃ যে সব প্রোটিন অন্য কোন উপাদানের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে না, তাদের সরল প্রোটিন বলে। যথা: অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, প্রোটমিন, হিস্টোন, গ্লায়াডিন, গ্লুটেলিন ইত্যাদি সরল প্রোটিনের উদাহরণ।
  • ২. সংযুক্ত প্রোটিনঃ সরল প্রোটিন যখন অন্য কোন উপাদানের সঙ্গে যুক্ত থাকে ,তখন তাদের সংযুক্ত প্রোটিন বলে। যথা: হিমোগ্লোবিন, হিমোসায়ানিন, ফসফোপ্রোটিন, লাইপোপ্রোটিন ইত্যাদি।
  • ৩. লব্ধ প্রোটিনঃ যে সব প্রোটিন পরিপাক নালীতে প্রোটিন জাতীয় খাদ্য পরিপাকের সময় উদ্ভূত হয়, তাদের লব্ধ প্রোটিন বলে। যথা: পেপটন, পেপটাইড ইত্যাদি।

👉পুষ্টিগত গুরুত্ব বা কাজঃ

  • দেহের বৃদ্ধি, কোষ গঠন ও ক্ষয়পূরণ হল প্রোটিনের প্রধান কাজ।
  • তাপ শক্তি উৎপাদন।
  • দেহস্থ উৎসেচক, হরমোন ইত্যাদি সৃষ্টি করা।
  • অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিডের চাহিদা পূরণ করা হল প্রোটিনের অন্যতম কাজ।

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায় যে, ১ গ্রাম প্রোটিন অণু দহন হলে ৪.১ কেসিএল তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক লোকের প্রত্যহ প্রায় ১০০-১৫০ গ্রাম প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের প্রয়োজন।

➤৩. স্নেহপদার্থ বা ফ্যাটঃ

উপাদানঃ কার্বন, হাইড্রোজেন, এবং অক্সিজেন নিয়ে স্নেহপদার্থ বা ফ্যাট গঠিত হয়। এখন অক্সিজেন অনুপাত শর্করা তুলনায় কম এবং শর্করার মত হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন ২:১ অনুপাতে থাকে না। ফ্যাট প্রকৃতপক্ষে অ্যাসিড এবং গ্লিসারলের সমন্বয়ে গঠিত এস্টার বিশেষ।

উৎসঃ বাদাম, নারিকেল, সরষে, রেড়ী বীজ, তুলা বীজ ইত্যাদিতে উদ্ভিজ্জ ফ্যাট এবং মাখন, ঘি, চর্বি ইত্যাদিতে প্রানিজ ফ্যাট থাকে। সাধারন উত্তাপে যে সমস্ত ফ্যাট তরল অবস্থায় থাকে, তাদের তেল বলে।

শ্রেণীবিভাগঃ ফ্যাট সাধারনত দু;রকমের হয়। যথা:

  • ১. সরল ফ্যাটঃ যে সব ফ্যাট অন্য কোন উপাদানের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে না, তাদের সরল ফ্যাট বলে। যথা: ওয়াক্স বা মোম, ল্যানোলিন ইত্যাদি সরল ফ্যাটের উদাহরণ।
  • ২. যৌগিক ফ্যাটঃ সরল ফ্যাট যখন অন্য কোন উপাদানের সঙ্গে যুক্ত থাকে ,তখন তাদের যৌগিক ফ্যাট বলে। যথা: ফসফোলিপিড, গ্লাইকোলিপিড, অ্যামাইনো-লিপিড ইত্যাদি।

👉পুষ্টিগত গুরুত্ব বা কাজঃ

  • তাপ শক্তি উৎপন্ন করা ফ্যাট জাতীয় খাদ্যে প্রধন কাজ।।
  • ফ্যাট প্রানিদেহের তাপ নিয়ন্ত্রনে রাখে।
  • ফ্যাট মেদরুপে ভবিষ্যতের খদ্যের উৎস হিসাবে সঞ্চিত থাকে।
  • ফ্যাট A, D, E, K ভিটামিনকে দ্রবীভূত রাখে এবং এদের শোষণে সাহায্য করে।
  • ফ্যাট যকৃৎ থেকে পিওরস এবং অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয় রস নিঃসরণে সাহায্য করে।
  • স্নেহপদার্থ মলাশয় ও পায়ু পিচ্ছল করে মল নিঃসরণে সহায়তা করে।
  • কোলেস্টেরল নামক ফ্যাট থেকে ভিটামিন-ডি, ইস্ট্রোজেন, টেস্টোস্টেরণ নামক হরমোন উৎপন্ন হয়।

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায় যে, ১ গ্রাম অণু ফ্যাট দহন হলে ৯.৩ কেসিএল তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক লোকের প্রত্যহ প্রায় ৫০ গ্রাম স্নেহপদার্থ প্রয়োজন।

➤৪. খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিনঃ

যে বিশেষ জৈব পরিপোষক সাধারন খাদ্যে অতি অল্প পরিমাণে থেকে দেহের স্বআভাবিক পুষ্টি ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং রোগপ্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে, তাকে ভিটামিন বলে।

  • শ্রেণীবিভাগঃ দ্রাব্যতা অনুসারে ভিটামিনগুলিকে দুভাগে ভাগ করা হয়। যথা:
    ১. তেল বা স্নেহপদার্থে দ্রবনীয় ভিটামিন :যে সব ভিটামিন তেল বা স্নেহপদার্থে দ্রবীভূত হয়, তাদের স্নেহপদার্থে দ্রবনীয় ভিটামিন বলে। যথা: A, D, E, K ।
  • ২. জলে দ্রবনীয় ভিটামিন :যে সব ভিটামিন জলে দ্রবীত হয়, তাদের জলে দ্রবনীয় ভিটামিন বলে।। যথা: B, C এবং P ।

উৎসঃ ভিটামিন দুধ, ডিম, মাছ, মাংস, প্রানীদের যকৃৎ, মাছের যকৃৎ নিঃসৃত তেল, মাখন, উদ্ভিজ্জ তেল, বাদাম, ঢেঁকিছাটা চাল, লাল আটা, ছোলা, মুগ, বীট, গাজর, মটরশুঁটি, পালংশাক, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, লেবু, আম, আমলকি, আপেল ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। ভিটামিনের এই সব উৎসের মধ্যে দুধ, ডিম, পালংশাক, টমেটো, মটরশুঁটি, কলা, আপেল ইত্যাদিতে বেশীর ভাগ ভিটামিন পাওয়া যায়। ভিটামিন A এবং D এর উৎস মোটামুটি এক, যেমন : কড্, হ্যালিবাট যকৃত নিঃসৃত তেল (লিভার অয়েল), মাখন, দুধ, ডিম,গাজর, বাঁধাকপি, ইত্যাদি। নারিকেল, সরষে, রেড়ী বীজ, তুলা বীজ ইত্যাদিতে উদ্ভিজ্জ ফ্যাট এবং মাখন, ঘি, চর্বি ইত্যাদিতে প্রাণিজ ফ্যাট থাকে। সাধারন উত্তাপে যে সমস্ত ফ্যাট তরল অবস্থায় থাকে, তাদের তেল বলে।

👉পুষ্টিগত গুরুত্ব বা কাজ :

  • তাপ শক্তি উৎপন্ন করা ফ্যাট জাতীয় খাদ্যে প্রধান কাজ।
  • ফ্যাট প্রাণিদেহের তাপ নিয়ন্ত্রনে রাখে।
  • ফ্যাট মেদরুপে ভবিষ্যতের খাদ্যের উৎস হিসাবে সঞ্চিত থাকে।
  • ফ্যাট A, D, E, K ভিটামিনকে দ্রবীভূত রাখে এবং এদের শোষণে সাহায্য করে।
  • ফ্যাট যকৃৎ থেকে পিত্তরস এবং অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয় রস নিঃসরণে সাহায্য করে।
  • স্নেহপদার্থ মলাশয় ও পায়ু পিচ্ছিল করে মল নিঃসরণে সহায়তা করে।
  • কোলেস্টেরল নামক ফ্যাট থেকে ভিটামিন-ডি, ইস্ট্রোজেন, টেস্টোস্টেরন নামক হরমোন উৎপন্ন হয়।

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায় যে, ১ গ্রাম অণু ফ্যাট দহন হলে ৯.৩ কেসিএল তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক লোকের প্রত্যহ প্রায় ৫০ গ্রাম স্নেহপদার্থ প্রয়োজন।

➤৫. খনিজ লবণঃ 

লবণ বা নুন হলো খাদ্যে ব্যবহৃত এক প্রকারের দানাদার পদার্থ যার মূল উপাদান হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)। এটি প্রাণীর জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য, কিন্তু অধিকাংশ স্থলজ উদ্ভিদের জন্য বিষবৎ। লবণের স্বাদকে মৌলিক স্বাদের একটি বলে গণ্য করা হয়। পৃথিবীর সর্বত্র এটি খাদ্য প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হয়।

মানুষের খাদ্যে বিভিন্ন ধরণের লবণ ব্যবহার করা হয়। যেমন অপরিশোধিত সৈন্ধব লবণ (sea salt), পরিশোধিত খাবার লবণ, আয়োডিনযুক্ত লবণ, ইত্যদাই। লবণ দেখতে দানাদার, সাদাটে বর্ণের। সমূদ্রের পানি থেকে অথবা খনি থেকে লবণ আহরণ করা হয়।

➤৬. পানিঃ

পানি খাদ্যের একটি উপাদান। মানবদেহের জন্য পানি অপরিহার্য। দেহের গঠন এবং অভ্যন্তরীণ কাজ পানি ছাড়া চলতে পারে না। আমাদের দৈহিক ওজনের ৬০-৭০% পানি। আ"মাদের রক্ত মাংস, স্নাযূ, দাঁত, হাড় ইত্যাদি প্রতিটি অঙ্গ গঠনের জন্য পানি প্রয়োজন। দেহকোষ গঠন ও কোষের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াগুলো পানি ছাড়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

★ খাদ্য উপাদানের কাজ, উৎস ও মাথাপিছু দৈনিক প্রয়োজনীয় পরিমাণঃ 

খাদ্যের মুখ্য উপাদানঃ

  •  শ্বেতসার বা শর্করা
  •  আমিষ
  •  স্নেহ

খাদ্যের গৌণ উপাদানঃ

  • খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন
  •  খনিজ লবণ
  •  নিরাপদ পানি

খাদ্যের মুখ্য উপাদান শ্বেতসার বা শর্করাঃ

কাজ 

  • শরীরে তাপ শক্তি সরবরাহ করে
  • তেল / চর্বি জাতীয় পদার্থ দহনে সাহায্য করে
  • আমিষের প্রধান কাজ করতে সহায়তা করে

উৎসঃ চাল, গম, ভুট্টা, চিনি, গুড়, মিষ্টি, আলু, মিষ্টি আলু, কচু ইত্যাদি

মাথাপিছু দৈনিক প্রয়োজনীয় পরিমাণ (আহারোপযোগী ) 

  • মোট প্রয়োজনীয় খাদ্য শক্তির শতকরা প্রায় ৫০-৬০ ভাগ

আমিষঃ

কাজ 

  • দেহের গঠন ও বৃদ্ধি সাধন করে
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
  • শরীরে তাপ শক্তি সরবরাহ করে
  • শরীরে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে
  • উৎসঃ
  • প্রাণিজ উৎস যেমন-মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, কলিজা
  • উদ্ভিজ্জ উৎস যেমন- সয়াবিন, কাঁঠালের বীচি, সীমের বীচি, ডাল, বাদাম, মটরশুঁটি ইত্যাদি
  • মাথাপিছু দৈনিক প্রয়োজনীয় পরিমাণ (আহারোপযোগী): 
  • প্রতি কেজি শরীরের ওজনের জন্য ১ গ্রাম ( পূর্ণ বয়স্কদের জন্য )
  • প্রতি কেজি শরীরের ওজনের জন্য ২-৩ গ্রাম ( ৪ বছরের শিশুর জন্য )
  • প্রতি কেজি শরীরের ওজনের জন্য ১.৭ গ্রাম ( ৪-১৮ বছর বয়স পর্যন্ত )
  • প্রতি কেজি শরীরের ওজনের জন্য ১.৫ গ্রাম ( গর্ভবতী ও প্রসূতীর জন্য )

স্নেহ বা শ্বেতসারঃ

কাজ

  • দেহে শক্তি সরবরাহ করে
  • দেহের ত্বককে মসৃণ রাখে
  • খাবার সুস্বাদু করে ও তেল বা চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন শরীরে কাজে লাগাতে সাহায্য করে
  • উৎস  
  • প্রাণিজ উৎস যেমন-ঘি, মাখন, চর্বি
  • উদ্ভিজ্জ উৎস যেমন-সয়াবিন তেল, সরিষার তেল, তিলের তেল, সূর্যমুখীর তেল, বাদাম, ডালডা, নারকেল (শুকনা )
  • মাথাপিছু দৈনিক প্রয়োজনীয় পরিমাণ (আহারোপযোগী) 
  • প্রায় ৩৫-৪০ গ্রাম ( পূর্ণ বয়স্কের জন্য )
  • প্রতি কেজি শরীরের ওজনের জন্য দৈনিক ২-৩ গ্রাম ( ১ বছর পর্যন্ত শিশুর জন্য) 

 

★খাদ্যের গৌণ উপাদান - খাদ্য প্রাণ বা ভিটামিনঃ

 

ভিটামিন (তেল বা চর্বিতে দ্রবণীয়)  

ভিটামিন-এ

কাজ

  • চোখের স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখে
  • ত্বকের কোষকে ভালো রাখে ফলে ত্বক মসৃণ থাকে
  • শরীর গঠন এবং বৃদ্ধিতে সহায়তা করে
  • হাঁড় ও দাঁত তৈরীতে সহায়তা করে
  • সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
  • প্রজনন ক্ষমতা অক্ষুন্ন রাখতে সাহায্য করে
  • উৎস (আহারোপযোগী)  
  • প্রাণিজ উৎস যেমন-ফিস লিভার ওয়েল, মাছের তেল, কলিজা, মাখন, ডিমের কুসুম, কিডনি, চর্বি
  • উদ্ভিজ্য উৎস যেমন-রঙিন শাকসবজি, ফল এবং ভুট্টা ও মিষ্টি আলু
  • মাথাপিছু দৈনিক প্রয়োজনীয় পরিমাণ 
  • প্রায় ৫০০০ আই ইউ* ( প্রাপ্ত বয়স্কের জন্য )
  • প্রায় ৬০০০ আই ইউ ( গর্ভবতীর জন্য )
  • প্রায় ৮০০০ আই ইউ ( প্রসূতির জন্য )
  • প্রায় ২০০০-৪৫০০ আই ইউ ( ১-১২ বছর বয়স পর্যন্ত )
  • * আই ইউ  (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট)

ভিটামিন-ডি

  • কাজ 
  • শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস বিপাকে সাহায্য করে
  • হাঁড় ও দাঁত গঠনে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস কাজে লাগাতে সাহায্য করে
  • উৎস (আহারোপযোগী) 
  • প্রাণিজ উৎস যেমন-মাছের তেল, ফিস লিভার ওয়েল, মাখন, ডিমের কুসুম, দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার
  • প্রাকৃতিক উৎস যেমন-সূর্যের আলো
  • মাথাপিছু দৈনিক প্রয়োজনীয় পরিমাণ 
  • ২.৫ মাইক্রোগ্রাম ( প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের জন্য )
  • ১০ মাইক্রোগ্রাম ( গর্ভবতী, প্রসূতি ও শিশুর জন্য )
  • (উদ্ভিজ্জ খাদ্যে ভিটামিন-ডি নেই)

ভিটামিন-ই

  • কাজ 
  • এন্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে ভিটামিন-এ, ক্যারোটিন এবং অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডকে জারিত হয়ে নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে
  • প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি করাসহ বন্ধ্যাত্ব নিবারণে সহায়তা করে 
  • উৎস (আহারোপযোগী) 
  • প্রাণিজ উৎস যেমন-কডলিভার ওয়েল
  • উদ্ভিজ্জ উৎস যেমন- বাদাম,গম, যব, সূর্যমুখী তেল, সয়াবিন তেল এবং পামতেল
  • মাথাপিছু দৈনিক প্রয়োজনীয় পরিমাণ 
  • প্রায় ৫-১০ মিলিগ্রাম 

★পানিতে দ্রবণীয়  ভিটামিন 

★ ভিটামিন-সি

কাজ 

  • কোলাজেন নামক আমিষ তৈরী এবং রক্ষণাবেক্ষণে সাহায্য করে
  • চর্বি ও আমিষ বিপাকে সাহায্য করে
  • রক্ত তৈরী করার জন্য লৌহ এবং তাম্রকে ব্যবহৃত করতে সাহায্য করে
  • চামড়া মসৃণ এবং উজ্জল রাখে
  • দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখে
  • ক্ষতস্থান তাড়াতাড়ি শুকাতে সাহায্য করে ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করে
  • উৎস (আহারোপযোগী) 
  • টক জাতীয় ফল যেমন - আমলকি, পেঁয়ারা, জাম্বুরা, আমড়া, লেবু, কামরাঙ্গা, কুল, আনারস। এছাড়া কাঁচামরিচ, পুদিনা পাতা, ধনে পাতা, সজনে পাতা, মূলাশাক ইত্যাদি কাঁচা খেলেও ভিটামিন সি পাওয়া যায়।
  • মাথাপিছু দৈনিক প্রয়োজনীয় পরিমাণ 
  • ২০ মিলিগ্রাম ( শিশুর জন্য )
  • ৩০ মিলিগ্রাম ( প্রাপ্ত বয়স্কের জন্য )
  • ৫০ মিলিগ্রাম ( গর্ভবতীর জন্য )
  • ৫০ মিলিগ্রাম ( প্রসূতির জন্য )

ভিটামিন-বি২

  • কাজ 
  • শরীরে শর্করা জাতীয় খাদ্যের বিপাক ক্রিয়ায় সাহায্য করে শক্তি উৎপাদন করে
  • চর্বি ও আমিষ থেকে শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে
  • দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি সাধনে সাহায্য করে
  •  
  • উৎস (আহারোপযোগী) 
  • প্রাণিজ উৎস যেমন-চর্বি বিহীন মাংস, কলিজা, ডিম, দুধ, মাছ
  • উদ্ভিজ্জ উৎস যেমন-ঢেঁকি ছাঁটা সিদ্ধ চাল, গম, যব, ইস্ট, মটরশুঁটি ইত্যাদি
  • মাথাপিছু দৈনিক প্রয়োজনীয় পরিমাণ 
  • ১.৪ মিলিগ্রাম ( পুরুষের জন্য )
  • ১.০ মিলিগ্রাম ( মহিলার জন্য )
  • ১.১ মিলিগ্রাম ( গর্ভবতীর জন্য )
  • ১.৪ মিলিগ্রাম ( প্রসূতির জন্য )

★নায়াসিন

  • কাজ 
  • শর্করা বিপাকে সাহায্য করে
  • শর্করা ও আমিষ থেকে দেহের চর্বি উৎপাদনে সাহায্য করে
  • উৎস (আহারোপযোগী) 
  • প্রাণিজ উৎস যেমন-মাংস, কলিজা
  • উদ্ভিজ্জ উৎস যেমন-গম, ডাল, বাদাম, তেল বীজ, ছোলা ও শাক-সবজি
  • মাথাপিছু দৈনিক প্রয়োজনীয় পরিমাণ 
  • ১৮.২ মিলিগ্রাম ( পুরুষের জন্য )
  • ১৩.২ মিলিগ্রাম ( মহিলার জন্য )
  • ১৫.১ মিলিগ্রাম ( গর্ভবতীর জন্য )
  • ১৮.১ মিলিগ্রাম ( প্রসূতির জন্য )

★ ভিটামিন-বি১২

  • কাজ 
  • কো-এনজাইম হিসেবে দেহে কাজ করে
  • রক্তের লোহিত কণিকার আকার স্বাভাবিক রাখে
  • উৎস (আহারোপযোগী) 
  • প্রাণিজ উৎস যেমন-কলিজা, মগজ, হৃৎপিন্ড, কিডনি, মাংস, মাছ, ডিম, দুধ, দুগ্ধজাত খাদ্য, ডিমের কুসুম ও গরুর কলিজা
  •       (উদ্ভিজ্জ খাদ্যে ভিটামিন-বি১২ নেই)
  • মাথাপিছু দৈনিক প্রয়োজনীয় পরিমাণ 
  • ১.০ মাইক্রোগ্রাম (শিশুর জন্য)
  • ২.০ মাইক্রোগ্রাম (প্রাপ্ত বয়স্কের জন্য)
  • ৩.০ মাইক্রোগ্রাম (গর্ভবতীর জন্য)
  • ২.৫ মাইক্রোগ্রাম (প্রসূতির জন্য) 

খনিজ লবণঃ

ক্যালসিয়াম

কাজ 

  • ফসফরাসের সহযোগিতায় শরীরের কাঠামো, হাঁড় ও দাঁত গঠন এবং তা মজবুত করে
  • প্রতিটি জীব কোষ গঠনে এর প্রয়োজন
  • রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় উপাদান
  • হৃৎপিন্ডের সংকোচন, প্রসারণ এবং হৃৎপিন্ডে স্পন্দনে সাহায্য করে
  • উৎস (আহারোপযোগী) 
  • প্রাণিজ উৎস যেমন-ছোট চিংড়ি, ছোট মাছের কাঁটা, নরম হাঁড়, দুধ ও দুধজাত খাবার
  • উদ্ভিজ্জ উৎস যেমন-ডাল, ঢেঁড়স, সজনে এবং সবুজ শাক যেমন-কচু শাক, পালং শাক ইত্যাদি
  • মাথাপিছু দৈনিক প্রয়োজনীয় পরিমাণ 
  • ৪৫০ মিলিগ্রাম ( প্রাপ্ত বয়স্কের জন্য )
  • ৫০০-৬০০ মিলিগ্রাম ( শিশুর জন্য )
  • ৬৫০ মিলিগ্রাম ( কিশোর-কিশোরীর জন্য )
  • ১১০০ মিলিগ্রাম ( গর্ভবতীর জন্য )
  • ১১০০ মিলিগ্রাম ( প্রসূতির জন্য )

★ফসফরাস

কাজঃ

  • ক্যালসিয়ামের সাথে মিলিত হয়ে হাঁড় ও দাঁতের তন্তু তৈরী এবং তা মজবুত করে
  • শর্করা এবং চর্বি বিপাকে সাহায্য করে শরীরে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে
  • কোষের নিউক্লিক এসিড ও সাইটোপ্লাজমের অপরিহার্য অংশ
  • উৎস ( আহারোপযোগী ) 
  • প্রাণিজ উৎস যেমন-মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, পনির
  • উদ্ভিজ্জ উৎস যেমন-বাদাম, ডাল এবং দানা জাতীয় খাদ্য দ্রব্য
  • মাথাপিছু দৈনিক প্রয়োজনীয় পরিমাণ 
  • ৮০০ মিলিগ্রাম

★ পটাশিয়াম

  • কাজ 
  • দেহ বিশেষ করে চর্বিহীন মাংসপেশী বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন
  • পেশীর স্বাভাবিক নড়াচড়া বজায় রাখে
  • উৎস (আহারোপযোগী) 
  • প্রাণিজ উৎস যেমন-চর্বিহীন মাংস এবং দুধ ( তবে কম বেশি প্রায় সব খাবারের মধ্যে পটাশিয়াম রয়েছে ) 
  • মাথাপিছু দৈনিক প্রয়োজনীয় পরিমাণ  
  • ২.৫ মিলিগ্রাম (প্রাপ্ত বয়স্কের জন্য)

★ আয়রণ

  • কাজ 
  • রক্তের হিমেগ্লোবিনের হিম অংশ তৈরীর জন্য অপরিহার্য
  • অসংখ্য এনজাইমের অংশ হিসেবে অক্সিডেশন-রিডাকশন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়
  • জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রন-ট্রান্সফার সিস্টেমের জন্যে লৌহের প্রয়োজন
  • উৎস (আহারোপযোগী) 
  • প্রাণিজ উৎস যেমন-মাংস, কলিজা, ডিম, টেংরা মাছ, তাপসী মাছ, রুপাপাতিয়া মাছ বা এসব মাছের শুটকি
  • উদ্ভিজ্জ উৎস যেমন-কাঁচা আম, আমচুর, কাল কচু শাক, ফুল কপির পাতা, শালগম পাতা, ডাঁটা শাক এবং অন্যান্য শাক
  • মাথাপিছু দৈনিক প্রয়োজনীয় পরিমাণ 
  • ০৯ মিলিগ্রাম (প্রাপ্ত বয়স্কের জন্য )
  • ১০ মিলিগ্রাম (ছোট ছেলে মেয়ের জন্য)
  • ১৮  মিলিগ্রাম (কিশোরের জন্য)
  • ২৪  মিলিগ্রাম (কিশোরীর জন্য)
  • ২৮  মিলিগ্রাম (প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলার জন্য)
  • ৩৩  মিলিগ্রাম (গর্ভবতীর জন্য)

★আয়োডিন

  • কাজ 
  • থাইরক্সিন নামক হরমোন তৈরীর জন্য অত্যাবশ্যকীয়
  • শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য
  • উৎস (আহারোপযোগী) 
  • প্রাণিজ উৎস যেমন-সামুদ্রিক মাছ (তাজা/শুটকি)
  • প্রাকৃতিক উৎস যেমন-সামুদ্রিক আগাছা
  • আয়োডিন মিশ্রিত খাবার লবণ
  • মাথাপিছু দৈনিক প্রয়োজনীয় পরিমাণ 
  • ১৫০ মাইক্রোগ্রাম

★ পানি 

কাজ 

  • মানব দেহে যে কোন রাসায়নিক পরিবর্তনে সাহায্য করে
  • গ্রহণকৃত খাবার হজম, আত্মীকরন, শোষণ, সংগ্রহণ ও মল নিঃসরণ করে
  • শরীরে তাপমাত্রা রক্ষা করে
  • শরীরে এক স্থান হতে অন্য স্থানে পুষ্টি উপাদান পৌছায়
  • শরীরের জোড়া অংশ নড়াচড়ায় সাহায্য করে
  • শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় পদার্থ বের করে
  • উৎস 
  • প্রাকৃতিক উৎস (বিশুদ্ধ)
  • তরল খাবার বা পানিয়
  • শক্ত খাবার
  • মাথাপিছু দৈনিক প্রয়োজনীয় পরিমাণ 
  • প্রায় আড়াই থেকে তিন লিটার (পূর্ণ বয়স্কের জন্য) 

★ সুষম খাদ্য  

  • সুষম খাবার বলতে আমরা এমন খাবারের কথা বুঝি যাতে শরীরের প্রয়োজনীয় সবকটি খাদ্য উপাদানই সঠিক পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। সুষম খাদ্য তালিকায় শক্তিদায়ক,শরীর বৃদ্ধিকারক ও ক্ষয়পূরক এবং রোগ প্রতিরোধক খাবার উপযুক্ত পরিমাণে  অন্তর্ভূক্ত থাকতে হবে।
  • বয়স, কাজ, লিঙ্গ ও শারীরিক অবস্থাভেদে সুষম খাদ্য  ভিন্ন হতে পারে।
  •  সুস্থ্য দেহের জন্য খাদ্য উপাদান ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার দৈনিক খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
  • এছাড়া প্রয়োজনীয় পরিমাণ নিরাপদ পানি পান করতে হবে। দৈনিক খাদ্য তালিকায় যেন ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রিত কোন খাবার না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
  • সুষম খাদ্য বলতে শুধু দামি খাদ্যকেই বুঝায় না। সস্তা খাদ্য সামগ্রী দিয়েও সুষম খাদ্য তৈরী করা যায়।

★ পুষ্টি  

  • পুষ্টি এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে গ্রহণ করা খাদ্য পরিপাক ও শোষিত হয়ে শরীরে তাপ ও শক্তি যোগায়, শরীরের বৃদ্ধিসাধন করে রোগ থেকে মুক্ত রাখে, ক্ষয়পূরণ করে এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
  • পুষ্টির উৎস 
  • চাল, ডাল
  • মাছ, মাংস
  • শাকসব্জী, ফলমূল
  • পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (ভিটামিন ‘বি’কমপ্লেক্স, ভিটামিন ‘সি’)
  • তেলে দ্রবণীয় ভিটামিন (ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন‘ডি’, ভিটামিন ‘ই’, ভিটামিন ‘কে’)
  • ভিটামিন ‘সি’
  • পুষ্টিকর খাদ্য কেন প্রয়োজন
  • শরীর গঠন, বুদ্ধিমত্তা, শরীর বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ এবং রোগ প্রতিরোধের জন্য
  •  শারীরিক শক্তি বা কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য
  • জীবন চক্রের অতি গুরুত্বপূর্ন সময় যেমন- শিশুকাল, শৈশবকাল, কৈশোর, গর্ভাবস্থা, স্তন্যদানকাল ও বয়োসন্ধিকালে বিশেষ প্রয়োজনীয়, পরিমিত ও  নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন। বয়স, লিঙ্গ, শারীরিক অবস্থা ও দৈহিক ক্রিয়াকর্ম অনুযায়ী খাদ্য চাহিদা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বা কম কিংবা অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণ অপুষ্টি জনিত রোগের কারণ হতে পারে। তাই জীবনের সকল পর্যায়ে আমাদের পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ করা উচিৎ।

★সচরাচর জিজ্ঞাসা ★

  • প্রশ্ন.১.খাদ্যের কাজ কি? 
  • উত্তর. খাদ্যের কাজ হলো:শরীরে তাপশক্তি ও কর্মক্ষমতা যোগানো,শরীর গঠন ও বৃদ্ধিসাধন এবং ক্ষয়পূরণ, শরীর রোগমুক্ত রাখা, অসুস্থ শরীরকে আরোগ্য লাভে সহায়তা করা
  •  
  • প্রশ্ন.২.শক্তি জাতীয় খাদ্যের উৎস কোন গুলো? 
  • উত্তর. শস্য জাতীয় খাদ্য (যেমন  চাল, গম, ভূট্টা, জোয়ার ইত্যাদি),মূল জাতীয় খাদ্য (যেমন  গোল আলু, মিষ্টি আলু, মেটে আলু, কাসাবা ইত্যাদি), তেল বা চর্বি জাতীয় খাদ্য (যেমন সব রকমের তেল, ঘি,  মাংসের চর্বি  ইত্যাদি) , চিনি, গুড়  ও মিষ্টি  জাতীয় খাদ্য ।
  •  
  • প্রশ্ন.৩. শরীর গঠন, বৃদ্ধিসাধন এবং ক্ষয়পূরণকারী খাদ্যের উৎস কি? 
  • উত্তর. প্রাণীজ উৎস থেকে প্রাপ্ত: ডিম, দুধ, মাছ, মাংস এবং উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রাপ্ত: সব রকমের ডাল, মটর শুঁটি, সীমের বীচি, কাঁঠালের বীচি, বাদাম প্রভৃতি। 
  •  
  • প্রশ্ন.৪. রোগ প্রতিরোধক খাদ্য কোন গুলো? 
  • উত্তর. রোগ প্রতিরোধক সস্তা খাদ্যের মধ্যে রয়েছে রঙ্গিন শাকসব্জি ও ফলমূল।
  •  
  • প্রশ্ন.৫.পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন-নায়াসিনের কাজ কি?
  • শর্করা বিপাকে সাহায্য করে
  • শর্করা ও আমিষ থেকে দেহের চর্বি উৎপাদনে সাহায্য করে
  •  
  • প্রশ্ন.৬.পুষ্টির কাজ কি? 
  • উত্তর. পুষ্টির কাজ হলো: শরীর গঠন, বৃদ্ধি সাধন, ক্ষয়পূরণ, শক্তি সরবরাহ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে শরীরকে কর্মক্ষম রাখা।
  •  
  • প্রশ্ন.৭.সুষম খাদ্য তালিকায় কোন ধরনের খাদ্যগুলো থাকতে হবে? 
  • উত্তর. সুষম খাদ্য তালিকায় সকল ধরনের খাদ্যসামগ্রী  যেমন- শক্তিদায়ক, শরীর গঠন, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণকারী এবং রোগ প্রতিরোধকারী খাবার অন্তর্ভূক্ত থাকবে।

গ্রন্থনাঃ শুভংকর বর্মন।

কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

✪✪✪ কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর ✪✪✪
➤ কম্পিউটারের আবিষ্কারক কে - হাওয়ার্ড অ্যাইকেন ।
➤ আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে - চার্লস ব্যাবেজ ।
➤ বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার কে - লেডি অ্যাডা অগাস্টা ।
➤ কখন সর্বপ্রথম মিনি কম্পিউটার তৈরি হয় - ১৯৬৪ সালে ।
➤ বিশ্বের প্রথম মিনি কম্পিউটারের নাম কি - পিডিপি-১ ।
➤ বিশ্বের সবচেয়ে বড় সফটওয়্যার কোম্পানির নাম - মাইক্রোসফট কর্পোরেশন (যুক্তরাষ্ট)।
➤ 'অ্যাপল' কোম্পানির কম্পিউটারের নাম অ্যাপল দেয়া হয়েছিল কেন - অংশীদারদের একজন একজন আপেল বাগানে কাজ করতেন বলে ।
➤ কম্পিউটার সিস্টেমের প্রসেসরকে কি বলা হয় - ব্রেইন বা মস্তিষ্ক ।
➤ মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা কে - বিল গেটস ।
➤ ডট মেট্রিক্স কি - এক ধরনের প্রিন্টার ।
➤ সিলিকা থেকে তৈরি কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ব্যাপক মাত্রার ডাটা সংরক্ষণ করতে পারে, এ হার্ডওয়্যারের নাম কি - চিপ ।
➤ আইসি (IC) চিপ দিয়ে তৈরি প্রথম ডিজিটাল কম্পিউটারের নাম কি - আইবিএম সিস্টেম/৩৬০ ।
➤ প্রথমবারের মতো কম্পিউটারের মধ্যে চিপ ব্যবহার করা হয় কবে - ১৯৭৬ সালে ।
➤ সব আধুনিক কম্পিউটার কোন পদ্ধতিতে কাজ করে - ডাটা ।
➤ কম্পিউটারের পারস্পরিক যোগাযোগকে কি বলে - নেটওয়ার্ক ।
➤ সিআইএইচ বা চেরনোবিল ভাইরাস কি - ১৯৯৯ সালের ২৬ এপ্রিল বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহুদেশের লাখ লাখ কম্পিউটার আক্রমকারী ভাইরাস ।
➤ আধুনিক মডেলের কম্পিউটার বা প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটার তৈরি করা হয় কবে - ১৯৪৪ সালে ।
➤ বর্তমান বিশ্বের প্রথম স্বয়ংক্রিয় কম্পিউটারের নাম কি - আইবিএম মার্ক-১ ।
➤ কম্পিউটার ভাইরাস কি - কম্পিউটার ভাইরাস একধরনের ক্ষতিকর সফটওয়্যার প্রোগ্রাম ।
➤ পামটপ কি - এক ধরনের ছোট কম্পিউটার । হাতের তালুতে নিয়ে কাজ করা যায় । ওজন মাত্র ১৭০ গ্রাম ।
➤ কম্পিউটার ডাটার একটির এরর কে কি বলা হয় - বাগ (Bug) .
➤ Y2KB এর পূর্ণ রুপ - Year 2000. এখানে Y অক্ষরটি এসেছে বছর বোঝাতে এবং 2 KB এসেছে দু হাজার বোঝাতে ।
➤ VIRUS এর পূর্ণ অর্থ - Vital Information Resources Under Seize.
➤ বাংলাদেশে প্রচলিত প্রথম কম্পিউটার কোনটি - আইবিএম-১৬২০ ।
➤ কোন যন্ত্র বা মাধ্যম দুটি কম্পিউটারকে টেলিফোন লাইনের মতো সংযুক্ত করে - মডেম ।
➤ কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার নিয়ন্ত্রয়নের জন্য যে ব্যক্তি প্রোগ্রাম তৈরে করে- প্রোগ্রামার ।
➤ কোন মার্কিন কোম্পানিকে 'বিগ ব্লু' বলা হয় - আইবিএম কোম্পানিকে ।
➤ একটি কম্পিউটার কিভাবে সমস্যার সমাধান করে - পূর্বলিখিত প্রোগ্রাম অনুসরণ করে ।
➤ প্রথম কোন কম্পিউটারে ভ্যাকুয়াম টিউবের বদলে ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয় - আইবিএম-১৪০১ ।

➤ কম্পিউটার ল্যাঙ্গুয়েজের প্রথম প্রজন্মের নাম কি দেয়া হয়েছিল - মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজ (Machine Language).
➤ বিমানের টিকিট রিজার্ভেশনের জন্য কোন ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ব্যবহার করা হয় - টাইম শেয়ারিং অপারেটিং সিস্টেম ।
➤ মেলিসা কি - এক প্রকার কম্পিউটার ভাইরাস ।
➤ কোন কম্পিউটার কোম্পানি RAM চিপ আবিষ্কার করে - ইনটেল ।
➤ প্রথম পার্সোনাল কম্পিউটারের নাম কি ও কোন কম্পিউটার এটি তৈরি করেছিল - অ্যালটেয়ার-৮৮০০; মাইক্রো ইনস্ট্রুমেনশন অ্যান্ড টেলিমেট্রি সিস্টেমস কোম্পানি ।
➤ কোনটি প্রোগ্রামিংয়ের উচ্চ স্তরের ভাষা - বেসিক (BASIC), সি (C), সি ++ (C++).
➤ অপারেটিং সিস্টেম কত প্রকার ও কি কি - দু প্রকার । 1. Control Programme, 2. Service Programme.
➤OMR এর পূর্ণ রুপ কি - Optical Mark Reader
➤ ইনপুট কাকে বলে? - প্রোগ্রাম ও ডাটা গ্রহণকারী কম্পিউটারের অংশ।
➤ অপারেটিং সিস্টেমের কেন্দ্রীয় প্রোগ্রাম অংশকে কি বলে? - কারনেল।
➤ এনালগ কম্পিউটারের প্রধান বৈশিষ্ট্য কি? - পর্যায়ক্রমিকভাবে উঠা-নামা করা।
➤ প্রথম ইলেকট্রন কম্পিউটার কে তৈরি করেন? - অধ্যাপক ড. জন অ্যাটানাসফ ১৯৪২ সালে এটি তৈরি করেন (যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক)
➤ সর্বপ্রথম উদ্ভাবিত মাইক্রোপ্রসেসরটির নাম কি? - ইনটেল ৪০০৪ ।
➤ বিট কাকে বলে? - কোনো ইলেকট্রনিক সিগন্যালকে বাইনারী ডিজিট 0 এবং 1 এ প্রকাশ করা হলো বিট।
➤ ইনফর্মেশন হাইওয়ের প্রাথমিক রুপ কোনটি? - ইন্টারনেট ।
➤ ফার্মওয়্যার কি? - কম্পিউটার তৈরি করার সময় এর মেমোরিতে যেসব প্রোগ্রাম স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয় তাকে ফার্মওয়্যার বলে । এসব প্রোগ্রাম আমরা পরবর্তীতে ইচ্ছা মতো পরিবর্তন করতে পারি না।
➤ বাংলাদেশ প্রথম মেইনফ্রেম কম্পিউটার স্থাপন করা হয় কবে? - সত্তর দশকের শেষার্ধে ।
➤ পিসি কি? - পার্সোনাল কম্পিউটার কে সংক্ষেপে পিসি বলে। সাধারণত একজন ব্যক্তি এটি ব্যবহার করে বলে এরুপ নামকরণ করা হয়।
➤ আইবিএম কোম্পানি কত সালে তার মাইক্রো কম্পিউটার বাজারে ছাড়ে?- ১৯৮১ সালে।

➤ বিল গেটসের প্রথম প্রোগ্রাম কোনটি - MS DOS.
➤ সফটওয়্যারকে কয়ভাগে ভাগ করা যায় এবং কি কি?- দুই ভাগে । যথাঃ ১. সিস্টেম সফটওয়্যার ও ২. ব্যবহারিক সফটওয়্যার।
➤ বিশ্ব কম্পিউটের বাজারে কোন কোম্পানি সর্বাধিক সফটওয়্যার যোগান দেয়? - মাইক্রোসফট কর্পোরেশন।
➤ কত বাইট সমান ১ মেগাবাইট? - ১০ লাখ বাইট।
➤ কম্পিউটার প্রোগ্রামের জন্য উদ্ভাবিত কৃত্রিম ভাষার স্তর কয়টি ও কি কি? - ৫ টি। যথাঃ ১. মেশিন ভাষা ২. অ্যাসেম্বলি ভাষা ৩. উচ্চতর ভাষা ৪. অতি উচ্চতর ভাষা ৪.স্বাভাবিক ভাষা।
➤ এনিয়াক কি? - ইলেকট্রনিক নিউমেরিকাল ইনরটিগ্রেটর অ্যান্ড কম্পিউটার।
➤ ফিল্ড কি? - তথ্যের শিরোনামগুলোর প্রত্যেকটিকে একেকটি ফিল্ড বলে।
➤ কম্পিউটার এর স্মৃতি কত প্রকার ও কি কি? - দুই প্রকার। যথাঃ ১. প্রধান স্মৃতি ২. সহায়ক স্মৃতি।
➤ ডিজিটাল কম্পিউটার দ্বারা কি কাজ করা যায়? - নভোযানের নকাশা তৈরি করা যায়।
➤ আউটপুট কাকে বলে? প্রক্রিয়াকরণের ফলাফল পাওয়ার জন্য কম্পিউটারের অংশ।
➤ পার্সোনাল কম্পিউটার হিসেবে খ্যাত কম্পিউটার কোনটি? - মাইক্রো কম্পিউটার।
➤ কম্পিউটারে ইনপুট প্রদানে ব্যবহৃত যন্ত্রটির নাম কি? - ইনপুট ডিভাইস।
➤ গিবারিশ (Gibberish) কি? - কম্পিউটের দেয়া অপ্রয়োজনীয় ইনফরমেশেনকে বলে Gibberish.
➤ বাইট কাকে বলে? - ৮ টি বিটের সমষ্টিকে বাইট বলে।

▣ Written By        ___SHUVONGKOR___

বাইনারি ও ডেসিমেল সংখ্যা

বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি বা দ্বিমিক সংখ্যা পদ্ধতি (ইংরেজি: Binary number system) একটি সংখ্যা পদ্ধতি যাতে সকল সংখ্যাকে কেবলমাত্র ০ এবং ১ দিয়ে প্রকাশ করা হয়। এই সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি দুই। ডিজিটাল ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির লজিক গেটে এই সংখ্যাপদ্ধতির ব্যাপক প্রয়োগ রয়েছে। তাছাড়া প্রায় সকল আধুনিক কম্পিউটারে বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। বাইনারি পদ্ধতিতে প্রতিটি অঙ্ককে বিট বলা হয়।

সংখ্যা পদ্ধতিকে সাধারণত ৪ ভাগে ভাগ করা হয়। (১) ডেসিমেল নাম্বার সিস্টেম, (২) বাইনারী নাম্বার সিস্টেম, (৩) অক্টাল নাম্বার সিস্টেম ‍ও (৪) হেক্সা ডেসিমেল নাম্বার সিস্টেম। ডেসিমেল নাম্বার সিস্টেমে অঙ্ক ১০ টি অর্থাৎ এর বেজ ১০ (১,২,৩,৪,৫,৬,৭,৮,৯,০)। অনুরূপভাবে বাইনারী নাম্বার সিস্টেমের বেজ ২ (১,০), অক্টাল নাম্বার সিস্টেমের বেজ ৮ (১,২,৩,৪,৫,৬,৭,০), হেক্সা ডেসিমেল নাম্বার সিস্টেমের বেজ ১৬(১,২,৩,৪,৫,৬,৭,৮,৯,A,B,C,D,E,F, ০ )।

▣ Table of Different Kind of Numbers:

Decimal Roman Binary Hexadecimal
0 00 0
1 I 01 1
2 II 10 2
3 III 11 3
4 IV 100 4
5 V 101 5
6 VI 110 6
7 VII 111 7
8 VIII 1000 8
9 IX 1001 9
10 X 1010 A
11 XI 1011 B
12 XII 1100 C
13 XIII 1101 D
14 XIV 1110 E
15 XV 1111 F
50 L 110010 32
100 C 1100100 64
500 D 111110100 1F4
1000 M 1111101000 3E8
Decimal Binary
8 1000
16 10000
32 100000
64 1000000
128 10000000
256 100000000

✬✬✬ DB Converter ✬✬✬ 

ডেসিমেল থেকে বাইনারি রুপান্তরঃ

  • যে সংখ্যাকে বাইনারি তে রুপান্তর করতে হবে সেটাকে ২ দিয়ে ভাগ করতে হবে
  • ভাগশেষ যা হবে তা নিতে হবে, যদি ০ হয় তাও নিতে হবে
  • যে ভাগফল আসবে সেটাকে আবার ২ দিয়ে ভাগ করতে হবে
  • ভাগশেষ যা হবে তা নিতে হবে, যদি ০ হয় তাও নিতে হবে
  • যে ভাগফল আসবে সেটাকে আবার ২ দিয়ে ভাগ করতে হবে
  • ভাগশেষ যা হবে তা নিতে হবে, যদি ০ হয় তাও নিতে হবে
  • এভাবে ভাগফল ১ না আসা পর্যন্ত  ২ দিয়ে ভাগ করতে হবে
  • ভাগফল ১ পেয়ে গেলে বাইনারি সংখ্যা হবে ১ এবং নিচ থেকে উপরের দিকে সব ভাগশেষগুলো পাশাপাশি বসে গঠিত সংখ্যা।

উদাহরণঃ  16 সংখ্যাকে বাইনারি তে রুপান্তর

  • 16 ÷ 2 = 8 ; ভাগশেষ 0
  • 8 ÷ 2 = 4 ; ভাগশেষ 0
  • 4 ÷2 = 2; ভাগশেষ 0
  • 2 ÷ 2 = 1; ভাগশেষ 0

16 এর ক্ষেত্রে বাইনারি সংখ্যা = 10000

উদাহরণ ২ঃ 17 কে বাইনারি তে রুপান্তর

  • 17 ÷ 2 = 8 ; ভাগশেষ 1
  • 8 ÷ 2 = 4 ; ভাগশেষ 0
  • 4 ÷2 = 2; ভাগশেষ 0
  • 2 ÷ 2 = 1; ভাগশেষ 0

17 এর ক্ষেত্রে বাইনারি সংখ্যা = 10001

▣ বাইনারি থেকে কিভাবে ডেসিমেলে রুপান্তরঃ

  • বাইনারি সংখ্যাটির ডান দিক থেকে বাম দিকের বিট গুলিকে তাদের স্থানীয় মান দ্বারা গুন করতে হবে।
  • এরপর গুণফল গুলো যোগ করলে যে সংখ্যা হবে তা ডেসিমেল সংখ্যা।

উদাহরণঃ  110001 কে ডেসিমেল সংখ্যায় রুপান্তর

1 × 1 = 1
0 × 2 = 0
0 × 4 = 0
0 × 8 = 0
1 × 16 = 16
1 × 32 = 32

ডেসিমেল সংখ্যা= 1+0+0+0+16+32= 49

আরো জানতে ক্লিক করুন

▣ Written By        ___SHUVONGKOR___

ওহম এর সুত্র ও সার্কিটের কারেন্ট, ভোল্টেজ ও রেজিস্ট্যান্স নির্ণয়

▣ প্রশ্নঃ ওহমের সুত্রটি লিখ এবং এর মাধ্যমে কারেন্ট, ভোল্টেজ ও রেজিস্ট্যান্স নির্ণয় কর।

▣ উত্তরঃ
ওহম এর সুত্রঃ কোন পরিবাহির মধ্য দিয়ে সূষ্ম উষ্ণতায় প্রবাহিত কারেন্ট ঐ পরিবাহির বিভব (ভোল্টেজ) প্রার্থক্যের সমানুপাতিক।

ওহমের সুত্রের সাহায্যে সার্কিটের কারেন্ট নির্ণয়ঃ

সুত্রানুযায়ী আমরা জানি,

I = \frac {V}{R}
যেখানে, I = কারেন্ট,
V = ভোল্টেজ
R = রেজিস্ট্যান্স

ধরি, একটি সার্কিটে রেজিস্ট্যান্স R= 5 ওহম, ভোন্টেজ, V = 10 ভোল্ট

তাহলে, কারেন্ট, I = কত?

circuit-figure-001

আমরা জানি, I = \frac {V}{R}\frac {10}{5} = 2 অ্যাম্পিয়ার Ans.

ভোল্টেজ নির্ণয়ঃ আমরা জানি, I = \frac {V}{R} ∴ V = IR

ধরি, একটি সার্কিটের কারেন্ট, I = 4 অ্যাম্পিয়ার এবং রেজিস্ট্যান্স, R = 20 ওহম তাহলে ভোল্টেজ = ?

V = IR = 4 × 20 = 80 volt Ans.

রেজিস্ট্যান্স নির্ণয়ঃ ওহমের সুত্রানুযায়ী, I = \frac {V}{R} ∴ R =  \frac {V}{I}

ধরি, কোন সার্কিটের ভোল্টেজ, V = 100 volt, কারেন্ট, I = 5 A ∴ R = ?

R =  \frac {V}{I}\frac {100}{5} = 20 Ω Ans.

Designed By        ___SHUVONGKOR___